ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব
জাতীয় ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগের অবকাশ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সম্প্রতি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকা।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, ভোটগ্রহণের দিন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য কমিশন ভবনে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। এই সেল থেকেই মূলত ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করা হবে। বিগত সময়ের বিভিন্ন উপনির্বাচনের মতো এবারও একই ধরনের কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং পরবর্তীতে শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনেও এই পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আধুনিক নজরদারির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি জানান, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানো হবে। মনিটরিং সেল থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি মিনিট বাই মিনিট পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে সেখান থেকেও প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করছে কমিশন। সংবাদে আসা তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ ও আন্দোলনের বিষয়ে কোনো ধরনের রক্ষণাত্মক অবস্থান না নিয়ে বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়নের কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো অভিযোগকেই কমিশন হালকাভাবে দেখছে না এবং প্রতিটি খবরের পেছনে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত লুকিয়ে থাকে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই সব অভিযোগ ও তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে সংবাদকর্মীদের ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে থাকার আমন্ত্রণ জানান তিনি। পরিশেষে, সব ভোটার নির্বিঘ্ন ও স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।