কুকি চুরি করে যেভাবে পাসওয়ার্ড ছাড়াই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রতারকেরা
প্রযুক্তি ডেস্ক: দৈনন্দিন অনলাইন ব্যবহারের সময় আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লগইন করে কাজ শেষে শুধু ব্রাউজার বন্ধ করে দিই। কিন্তু ব্যবহারকারীর অজান্তেই এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, যা সাইবার নিরাপত্তার পরিভাষায় ‘সেশন হাইজ্যাকিং’ নামে পরিচিত। মূলত ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে জমা থাকা কুকি বা সেশন ইনফরমেশন চুরি করে এই কাজটি করা হয়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নর্ডভিপিএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্য এখন বিভিন্ন ধরনের কুকি চুরি করা। এর মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা বাড়তি যাচাই ছাড়াই সরাসরি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে।
অনলাইন দুনিয়ায় ‘কুকি’ হলো এমন কিছু ছোট আকারের তথ্য যা কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে থাকে। এর ফলে বারবার পাসওয়ার্ড দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহারকারী সহজে ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করতে পারেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই সেশন কুকিকে এক ধরনের ডিজিটাল চাবির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা সচল থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারীকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তবে ব্যবহার শেষ করার পর যথাযথভাবে লগআউট না করলে এই ডিজিটাল চাবিটি সক্রিয় থাকে। এই সুযোগটিই নেয় হ্যাকাররা এবং সক্রিয় কুকিটি চুরি করতে পারলে তারা মূলত আসল ব্যবহারকারীর পরিচয় ধারণ করে সব কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়।
সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার বা ইনফোস্টিলার প্রবেশ করিয়ে এসব কুকি চুরি করা হয়ে থাকে। অপরিচিত বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে সফটওয়্যার কিংবা ব্রাউজার এক্সটেনশন ডাউনলোড করার ফলেই মূলত এই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। যন্ত্রে প্রবেশ করার পর ম্যালওয়্যারটি ব্রাউজারের ভেতর থেকে সক্রিয় সেশন কুকিগুলো খুঁজে বের করে তা হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে প্রতারকেরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। অনেক সময় অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরি বা পরিচিতজনদের কাছে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয় ব্যবহারকারীদের।
এ ধরনের সাইবার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে অনলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কোনো ওয়েবসাইটে কাজ শেষ করার পর কেবল ট্যাব বন্ধ না করে অবশ্যই নিজ দায়িত্বে প্রপারলি লগআউট করার অভ্যাস করতে হবে। এর পাশাপাশি অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো উৎস থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত ব্রাউজারের ক্যাশ ও কুকি মুছে ফেলা উচিত। ডিভাইসের অস্বাভাবিক ধীরগতি বা অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ ম্যালওয়্যার সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, তাই সন্দেহ হলে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে ডিভাইস স্ক্যান করতে হবে। অ্যাকাউন্টের সুরক্ষাকে আরও দৃঢ় করতে মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়।