আয়কর রিটার্ন কখন দিলে ছাড় পাবেন, কখন জরিমানায় পড়বেন, জেনে নিন
অর্থনীতি ডেস্ক: কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য হাতে রয়েছে আর মাত্র দুই মাস সময়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে সহজেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই করদাতাদের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান নিয়মে করদাতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের বার্ষিক হিসাব সম্পন্ন করতে হবে।
চলতি অর্থবছর থেকে দেশের সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এর ফলে করের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট তারিখের পর সিস্টেম আর সাধারণ সাবমিট গ্রহণ করবে না। বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী বা টিআইএন থাকলেও প্রতিবছর মাত্র অর্ধকোটি মানুষ নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে থাকেন। এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
করদাতারা কখন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের ছাড় বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যারা রিটার্ন দিয়েছেন, তারা পরিশোধিত করের ওপর নির্দিষ্ট হারে ছাড় উপভোগ করেছেন। তবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে যারা রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তারা কোনো ধরনের অতিরিক্ত প্রণোদনা বা ছাড় পাবেন না। পরবর্তীতে জানুয়ারি থেকে মার্চ অথবা এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা বা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসেই খুব সহজে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর পরিশোধ করে অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া সম্ভব। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য রাজস্ব বোর্ডের কল সেন্টার ও অন্যান্য মাধ্যম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, শুধু রিটার্ন জমা দিয়েই করদাতার দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং ভবিষ্যৎ নিরীক্ষার প্রয়োজনে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।