জাতীয় ডেস্ক: সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনে কৃষি মন্ত্রণালয়ে শত শত আবেদন জমা পড়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে সারের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রাক্কালে এই ডিলার নিয়োগ জটিলতা কৃষিমন্ত্রণালয়কে এক প্রকার অস্বস্তিতে ফেলেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আমদানি কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য ডিলার নিয়োগের এই সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রধানত চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তদারকি কমিটির সুপারিশে অনিয়ম, একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নির্বাচন, নীতিমালা অমান্য করা এবং বিশেষ কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নেপথ্য কারণ। বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মন্ত্রণালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ জমা দিচ্ছেন। নীতিনির্ধারক মহলের দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও আমলাদের বিভিন্ন তদবির ও চাপ থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে। তবে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা ও কিছু এলাকায় তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জেলার প্রশাসন ইতিমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যশোরের জেলা প্রশাসক গত অক্টোবর মাসে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যা মনিরামপুর, অভয়নগর ও চৌগাছা উপজেলার ডিলার নিয়োগের অনিয়ম খতিয়ে দেখছে। একইভাবে খুলনার পাইকগাছা, বাঘারপাড়া ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও নিজস্ব গুদাম না থাকা ব্যক্তি কিংবা ফৌজদারি মামলার আসামিকে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবশ্য এসব অভিযোগের বেশিরভাগই অস্বীকার করেছেন এবং নিয়মের মাধ্যমেই সব হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
কৃষি সচিব জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে এবং মন্ত্রণালয় তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে যদি কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে আইনমন্ত্রীও জানিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, তবুও মাঠ পর্যায়ে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে তা সরকার খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে বিতর্কিত ডিলারদের নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।