বিনোদন ডেস্ক: ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরী সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। গভীর রাতে বন্দরনগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরে অবস্থিত আলোচিত এই মণ্ডপটি দেখতে যান তিনি। মূলত এই মণ্ডপের ভিন্নধর্মী আয়োজন এবং সাজসজ্জা দেখতেই তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে ছুটে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। মণ্ডপ ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং অনেকেই এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেন।
মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর অভিনেত্রী গভীর মনোযোগের সঙ্গে পুরো মণ্ডপটি ঘুরে দেখেন। পরে তিনি ঐতিহ্যবাহী কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন। মণ্ডপ পরিদর্শনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন পূজা চেরী। স্থানীয় এক বাসিন্দা তাঁর বক্তব্য ও মণ্ডপ পরিদর্শনের ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের এই মণ্ডপটির মূল ভাবনা ছিল মানুষের মনের ভেতরের ছয়টি রিপু বা প্রবৃত্তি যেমন লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনার বহিঃপ্রকাশ। এই ভিন্নধর্মী থিমের দারুণ প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন যে তাঁর মতে এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলো দূর করে আত্মশুদ্ধির যে বার্তা এই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তার জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ জানান এই চিত্রনায়িকা।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, তাদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছিল। প্রচলিত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এই থিমে। দেবী দুর্গার রূপের মধ্য দিয়ে মূলত অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের পথে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অভিনব ধারণার কারণে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী মণ্ডপটিতে ভিড় জমিয়েছেন।
আয়োজকরা আরও উল্লেখ করেন যে ’রিপু রজনী’ কেবল দর্শনীয় কোনো প্রতিমা প্রদর্শনী নয়, এটি মানুষের ভেতরের অন্ধকারকে চিনিয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস। মানুষের ভেতরের নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে শুভবোধ ও সংযমের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় এই আয়োজন। পূজা চেরীর মতো তারকার উপস্থিতি এবং এই মণ্ডপের প্রশংসায় মুখরিত হওয়ায় আয়োজকসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও বেশ আনন্দিত হয়েছেন।