জাতীয় ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় একটি তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজনের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি নির্ধারিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মহলে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, উপজেলার গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারির পর আয়োজক কমিটি বাধ্য হয়ে সব প্রস্তুতি স্থগিত করে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, প্যান্ডেল তৈরির জন্য আনা বিভিন্ন সরঞ্জাম ফিরিয়ে দিতে হয় এবং প্রধান অতিথিসহ অন্য বক্তাদের অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান আয়োজকরা।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধ করার এই ধরনের মানসিকতা ও আচরণ বিগত স্বৈরাচারী সরকারের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান সরকারকে এই ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, অন্যথায় এর নেতিবাচক পরিণতি সরকারকে বহন করতে হবে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুফতি আমির হামজা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, ঠিক কোন বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল করা হলো এবং যদি কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা থেকেই থাকে, তবে তা কেন স্পষ্ট করা হচ্ছে না। তিনি তার বার্তায় দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।