—ছবি মুক্ত প্রভাত
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানির প্রসারে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি ভবনের ছাদকে ছোট ছোট ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রে’ রূপান্তরের বড় উদ্যোগ নিয়েছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কৌশলপত্র’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখন থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনে বড় পরিসরে সোলার প্যানেল বসানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
'নেট মিটারিং' পদ্ধতিতে সোলার স্থাপন: ব্যবহারের পর বিক্রি করা যাবে বিদ্যুৎ
সভায় জানানো হয়, এবার কেবল বাসাবাড়ির জন্য সোলার প্যানেল নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির ওপর। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক তাঁর উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করার পর অতিরিক্ত অংশ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বিক্রি বা সরবরাহ করতে পারবেন। এতে করে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল যেমন নামমাত্র পর্যায়ে নেমে আসবে, তেমনি জাতীয় গ্রিডের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপও অনেকটাই কমে যাবে।
সভার মূল সিদ্ধান্ত ও মডেলসমূহ:
১. ক্যাপেক্স (CAPEX) ও অপেক্স (OPEX) মডেল চালু: বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জানান, এ মডেলগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থায়নের ভারসাম্য তৈরি করা হবে, যাতে প্রাথমিক খরচের ভয় না থাকে।
২. মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) পরামর্শ অনুযায়ী, জেলার প্রধান প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হবে।
৩. সমন্বিত তদারকি: বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা (বিউবো ও পল্লী বিদ্যুৎ) এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নীতি নির্ধারকদের বার্তা
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন বলেন:
"বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এ সময়ে সরকারের 'জাতীয় রুফটপ সোলার কৌশলপত্র' বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। নোয়াখালী জেলা যেন এ প্রক্রিয়ায় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে একসাথে কাজ করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
সভায় জেলাপর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলার নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও) উপস্থিত থেকে এ বিষয়ে সমন্বিত কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন।