—ছবি সংগৃহিত
একদল শিশু। ওদের বয়স ৭ থেকে ৯ বছরের মধ্যে হবে। জেলা প্রশাসকের কাছে নাকি ফুটবল পাওয়া যায়! সেই আশায় ওরা এসেছিল জেলা প্রশাসকের কাছে। ছোট্ট এই শিশুদের নিজের কার্যালয়ে দেখে জেলা প্রশাসকও অবাক হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার শিশুদের প্রত্যাশার কথা শুনে হাতে তুলে দেন একটি রঙিন ফুটবল। ওমনি কোমলমতি এসব শিশুরা মুখভর্তি হাসি নিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। মধুর এই ঘটনাটি সোমবার নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘটে।
শিশুদের সঙ্গে মজার সেই মুহূর্ত নিয়ে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার 'ডিসি নাটোর' নামের ফেসবুক আইডিতে ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেন- 'জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কয়েকজন শিশুর আগমন। জেলা প্রশাসকের কাছে আসলে ফুটবল পাওয়া যায়—এই আশায় তারা এসেছে। শিশুদের এই নির্মল প্রত্যাশা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহকে উৎসাহিত করতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ফুটবল। তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। মাঠে খেলুক শিশুরা, আনন্দে বেড়ে উঠুক।'
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে একদল শিশু এসে বলে- 'ডিসি আন্টির সঙ্গে দেখা করবো।' সঙ্গে সঙ্গে তাদের জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুরা সালাম দিয়ে তাদের অকৃত্রিম দাবির কথা তুলে ধরে। বলে- ' ডিসি আন্টি আমার খেলা ধুলা করতে চাই। কিন্তু আমাদের ফুটবল নেই। আপনি আমাদের একটি ফুটবল দিন। আমরা আপনার কাছে ফুটবল নিতে এসেছি।' জেলা প্রশাসক আগ্রহ ভরে শিশুদের এসব কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক একটি রঙিন ফুটবল এনে শিশুদের হাতে তুলে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- জেলা প্রশাসকের কাছে ফুটবল নিতে আসা শিশুরা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফুটবল পাওয়ার পর শিশুরা জানায়, খেলার জন্য তাদের একটি ফুটবল দরকার ছিল। কিন্তু কোনোভাবেই ব্যবস্থা হচ্ছিল না। পরিচিত এক কাকু বলেছেন-জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে বিনামূল্যে ফুটবল পাওয়া যায়। তাই তারা নিজেরাই দলবেঁধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে ফুটবলের দাবি জানায়। দাবির কথা শুনে জেলা প্রশাসক আন্টি সঙ্গে সঙ্গে একটি ফুটবল দেন। যে কোনো প্রয়োজনে শিক্ষক অথবা অভিভাবক সঙ্গে নিয়ে আবারো আসতে বলেন। ফুটবল উপহার পাওয়ায় তারা জেলা প্রশাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক সদস্য বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে মানুষ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আসেন। কিন্তু অবুঝ একদল শিশুর আস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ছুটে আসা ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ফুটবল নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আসা সত্যি অদ্ভুত আনন্দের। এটি জেলা প্রশাসকের জন্যও স্মৃতির স্মারক হয়ে থাকবে।
নাটোর জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার বলেন, অবুঝ শিশুরা যে নিখাদ ভালোবাসা আর বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে তার কাছে ফুটবল নিতে আসবে এটি তিনি ভাবেননি। শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দিতে পেরে তিনিও দারুণ আনন্দিত। খেলার প্রতি শিশুদের এই আগ্রহ তাকে মুগ্ধ করেছে।
মো. রাশিদুল ইসলাম