—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত শিক্ষক নয়, নিজ ক্যাম্পাসের যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পরিষদ থেকেই নিয়োগের দাবিতে গর্জে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক যৌথ মানববন্ধনে এই দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা দাবির পক্ষে বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
সংকট নিরসনে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের দাবি
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার পদটি শূন্য পড়ে থাকার কারণে নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে; যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, নোবিপ্রবিতে যোগ্য ও দক্ষ অ্যাকাডেমিশিয়ানদের অভাব নেই। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেসব শিক্ষক সম্মুখসারিতে থেকে সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাবেক প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তাঁদের মাঝ থেকেই ট্রেজারার নির্বাচিত করার এটাই উপযুক্ত সময়।
বহিরাগত নিয়োগে শিক্ষার্থীদের আপত্তি ও যুক্তি
বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন:
দায়বদ্ধতার অভাব: বাইরে থেকে আসা শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি স্থানীয় বা অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মতো আত্মিক দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা কম থাকে।
সময় অপচয়: নতুন পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো বুঝে উঠতেই বহিরাগতদের মেয়াদের বড় একটি অংশ পার হয়ে যায়, ফলে কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে।
স্বকীয়তার অবমূল্যায়ন: নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বা ট্রেজারার হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে লোক আনা হলে তা ক্যাম্পাসের মেধা ও শিক্ষকসমাজকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকেই ট্রেজারার পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।