—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর চাটখিলে দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড়কে কেন্দ্র করে এক প্রবাস ফেরত তরুণের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আপন চাচী জেসমিন আক্তারের (২৫) বিরুদ্ধে। নৃশসং এই ঘটনার পরই অভিযুক্ত চাচী আত্মগোপনে চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ। এর আগে, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জাদপাড়ার বাদশা মিয়া বেপারী বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
গুরুতর আহত তরুণের নাম জুয়েল (৩০)। তিনি ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর স্বজনেরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে কর্মরত ছিলেন। গত এক মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন। প্রবাসে থাকাকালে পরিবারের নিজস্ব মোবাইল সংযোগে সমস্যা থাকায় জুয়েল তাঁর চাচী জেসমিন আক্তারের ব্যক্তিগত মুঠোফোন ব্যবহার করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে মোবাইল যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে অনৈতিক শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
জুয়েল দেশে ফেরার পর পরিবারের অগোচরে তাঁদের এই সম্পর্ক আরও নিবিড় রূপ নেয়। কিন্তু সম্প্রতি পরিবার থেকে জুয়েলের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কনে দেখার কাজ শুরু হয়। এতে ক্ষুব্ধ ও ইর্ষান্বিত হয়ে পড়েন চাচী জেসমিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে জুয়েল চাচীর ঘরে প্রবেশ করলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা জেসমিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়ে সটকে পড়েন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জেসমিন আক্তারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ জানান:
"ভুক্তভোগী প্রবাসীর এক নিকটাত্মীয় থানায় এসে মৌখিকভাবে ঘটনাটি অবহিত করেছিলেন। ঘটনা শুনে আমরা তাঁদের তাৎক্ষণিক একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করার পরামর্শ দিই। তবে এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে আর কেউ থানায় যোগাযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।"