—ছবি সংগৃহিত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন সেনাসদস্যসহ মোট ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আফগান সীমান্তবর্তী জঙ্গিপ্রবণ ট্যাঙ্ক জেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাতে সেনা ও পুলিশের একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে এই ঘটনা ঘটে। মূল ঘাঁটিতে ঢুকতে না পেরে হামলাকারীরা বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে চৌকির বাইরের সীমানা প্রাচীরে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটে বিকট বিস্ফোরণ।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়:
"দেশের ১২ জন সেনাসদস্য, ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের ১ জন কর্মকর্তা—এই মোট ১৫ জন বীর সন্তান দেশের সেবায় চূড়ান্ত আত্মত্যাগ স্বীকার করে শাহাদাত বরণ করেছেন।"
বিস্ফোরণের আগে নিরাপত্তা চৌকিটি লক্ষ্য করে হামলাকারী জঙ্গিরা গুলি চালালে সেখানে সেনাদের সঙ্গে তাদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়ে জঙ্গিরা গাড়িটি প্রাচীরে আছড়ে ফেলে।
হামলার পর নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী 'তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান' (টিটিপি) এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দায় স্বীকার করে বার্তা পাঠিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মোট ৪ জন আত্মঘাতী সদস্য অংশ নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে ইসলামাবাদ সরকারকে তোয়াক্কা না করে কঠোর শাসনব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে টিটিপি। সম্প্রতি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আবারও হঠাৎ করেই জঙ্গি তৎপরতার মাত্রা বাড়তে দেখা গেছে।