—ছবি সংগৃহিত
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এ বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে সরকারকে আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা। শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তারা এ কথা জানান।
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন ভাঙার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যবর্তী অচলাবস্থা কাটানোর একটি পথ উন্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির পক্ষে আলোচনার টেবিলে ছিলেন সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন:
"আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প প্রস্তাব আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানানোর জন্য সরকার আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, অন্যথায় আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।"
বৈঠক শেষে পরিবেশ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের মূল তিনটি দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার বিকেলে আবারও দুই পক্ষ বৈঠকে বসবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি সিজেপির অপর দুটি প্রধান দাবি হলো—আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার এবং মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মর্মান্তিক ঘটনার পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তরুণ প্রজন্মের এই গণ-আন্দোলনকে মোদি প্রশাসনের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলগুলোও এই ছাত্র আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এই আন্দোলনের উত্তাপ ভারতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার জেরে চলতি সপ্তাহের বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যক্রম বারবার মুলতবি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্পিকার।