—ছবি সংগৃহিত
চুলায় চাপানো হয়েছিল লাল টকটকে গরুর মাংস। তেল-মসলায় কষানোও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল কিছুক্ষণ পরই! কড়াইয়ের দিকে তাকাতেই চোখ ছানাবড়া রানিয়ের। লালচে ঝোল আর মাংসের টুকরোগুলো চোখের সামনেই অদ্ভুতভাবে বদলে যেতে শুরু করল নীলচে-সবুজ রঙে! যত নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, সেই গাঢ় সবুজ রং যেন তত ভর করছিল কড়াইজুড়ে।
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীদের বার্ষিক ভোজের আয়োজনে গত বুধবার দুপুরে ঘটেছে এমনই এক অবিশ্বাস্য ও আতঙ্কজনক ঘটনা। রান্না করা অদ্ভুত সেই ‘সবুজ মাংসের কড়াই’ হাতে নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যায় পুরো উপজেলা চত্বরে।
যা ঘটেছিল সেদিন:
বেকারির ২৫ জন কর্মচারী মিলে যৌথ ভোজের আয়োজন করেছিলেন। সকালে বাজার করতে গিয়ে দেখা যায় আজকের তাজা মাংস শেষ। পরে বিক্রেতা ইসমাইলের ফ্রিজে রাখা আগের দিনের চার কেজি মাংস কিনে নিয়ে আসা হয়। বেকারির কর্মচারীদের দাবি, রান্নায় অতিরিক্ত বা ভিন্ন কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু চুলায় দেওয়ার পরই রূপ বদলাতে থাকে মাংস।
সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা ফুটন্ত মাংসের কড়াই নিয়ে হাজির হন পাইকগাছা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। মুহুর্তের মধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবনে প্রথমবার এমন ভৌতিক রঙের মাংস দেখলেন তারা।
অভিযোগ বনাম পাল্টা যুক্তি:
মাংস বিক্রেতা ইসমাইল অবশ্য ভেজালের দায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, একই ফ্রিজের মাংস অন্য ক্রেতারাও কিনেছেন, অথচ সমস্যা হলো শুধু বেকারির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে! বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো কেমিক্যালের বিক্রিয়ায় এমনটা হতে পারে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। যদিও বেকারির কর্মচারীরা মাংসের নমুনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞানের চোখে এমনটা কেন ঘটে?
খাদ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার সময় মাংসের রং হঠাৎ লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ থাকতে পারে:
ব্যাকটেরিয়া ও সালফোমাইওগ্লোবিন: মাংস সঠিকভাবে ফ্রিজিং না হলে তাতে জীবাণু জন্মে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি করে। যা মাংসের প্রোটিনের সাথে মিলে ‘সালফোমাইওগ্লোবিন’ তৈরি করে—এর রং হুবহু সবুজ।
ধাতব বিক্রিয়া: নিচু মানের অ্যালুমিনিয়াম বা দস্তার কড়াইয়ে মসলা ও অম্লের (Acid) বিক্রিয়ায় নীলচে-সবুজ যৌগ তৈরি হতে পারে।
রাসায়নিক ও ভেজাল: পশুখাদ্যের বিষাক্ততা কিংবা পচন ঢাকতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলেও উত্তাপে রং বদলে যেতে পারে।
পরিশেষে, কোনো লিখিত অভিযোগ না হওয়ায় এবং মাংস ফেলে দেওয়ায় ল্যাব টেস্টের সুযোগ মেলেনি। তবে এমন অস্বাভাবিক রঙের খাবার না খেয়ে ফেলে দেওয়াই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।