—ছবি সংগৃহিত
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। মাঠের ফুটবলে জয়ের পাশাপাশি এই জয় এক ভিন্ন রাজনৈতিক মাত্রাও এনে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিপক্ষে স্পেনের ধারাবাহিক দৃঢ় অবস্থানের কারণে এই জয়কে সংহতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখছে তেহরান। শিরোপা জয়ের পর স্পেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান।
‘স্বাধীনতাকামী মানুষের জয়’: ইরানের সংসদ স্পিকার
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে স্পেনের এই অবিস্মরণীয় অর্জনকে বিশ্বের ন্যায়বিচারকামী মানুষের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের পক্ষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি দেশটির মানুষের সমর্থন প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা স্পেনের বুদ্ধিমান ও সম্মানীয় জাতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই জয় কেবল স্পেনের জনগণকে নয়, বরং বিশ্বের বহু স্বাধীন, সার্বভৌম ও ন্যায়বিচারকামী মানুষের হৃদয়কেও আনন্দিত করেছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূয়সী প্রশংসা
একই সুরে স্পেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে চলা আগ্রাসন, গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পেন সরকারের সার্বিক অবস্থান এবং তাদের জাতীয় ফুটবল দলের আচরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মূল্যবান।”
খেলার মাঠে ভূ-রাজনীতির ছায়া
বিশ্বকাপের এই ফাইনালটি কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেও ছিল আলোচনার শীর্ষে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরাসরি ইসরায়েলের নীতিগুলোকে সমর্থন জানানোয় অনেক ইসরায়েলি সমর্থক আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে স্পেন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয় ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।