—ছবি মুক্ত প্রভাত
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় তাঁত শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র সিরাজগঞ্জে এক বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার’। আজ শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) সিরাজগঞ্জ সদরের মিরপুরে নবনির্মিত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আধুনিক কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পের ঐতিহ্যকে স্মরণ করে বলেন:
"সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার চালুর মাধ্যমে আমাদের স্থানীয় তাঁতিরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারবেন। এটি তাঁদের উৎপাদিত কাপড়ের গুণগত মান বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় শক্তির জোগান দেবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আসন অলঙ্কৃত করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. শরিফুল আলম, এমপি। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে দেশের অর্থনীতিতে গ্রামীণ তাঁত শিল্পের বিপুল অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং প্রান্তিক তাঁতিদের সার্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জনাব মো. আমিনুল ইসলাম এবং সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিরাজগঞ্জ সদরের মিরপুরে স্থাপিত এই নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা, ফ্যাশন ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন ও আধুনিক ডিজাইনের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। এর ফলে একদিকে যেমন প্রান্তিক তাঁতিদের জীবনযাত্রার মান ও আয়ের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে জেলার বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক উৎসাহী তাঁতশিল্পী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ নবনির্মিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব ও কম্পিউটারাইজড ডিজাইন ইউনিট ঘুরে দেখেন।