—ছবি সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, ইরান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তেল আবিবের কিছু সরকারি সদস্য।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগানের মুখোমুখি হয়ে এক সাক্ষাৎকারে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ভ্যান্স। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর আগামীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে আলোচিত এই নেতার এমন কঠোর অবস্থান দুই দীর্ঘদিনের মিত্রের মধ্যকার ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
গোপনে বিপুল অর্থের খেলা!
সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে দিতে পর্দার আড়ালে বিশাল অঙ্কের অর্থের খেলা চলছে। তিনি বলেন:
"আমি যে চুক্তির পেছনে শ্রম দিচ্ছিলাম, সেটি নষ্ট করতে বিদেশি অর্থায়নে বড় ধরনের ডিজিটাল প্রচার চালানো হচ্ছে; যেন মার্কিন নাগরিকরা এই চুক্তির বিপক্ষে চলে যায়।"
সম্প্রতি প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের সূত্র টেনে ভ্যান্স জানান, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করতে খোদ ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সাবেক এক ব্যবস্থাপককে নিয়োগ দিয়েছে ইসরায়েলপন্থীরা।
নিশানা যখন 'মাগা' সমর্থকরা
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আল-জাজিরার প্রতিবেদক প্যাটি কালহেনের মতে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যের লক্ষ্য মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর 'মাগা' (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) সমর্থকগোষ্ঠী। এই তরুণ সমর্থকদের বড় একটি অংশ জো রোগানের পডকাস্টের নিয়মিত শ্রোতা। বর্তমানে মার্কিন তরুণদের একাংশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চিরন্তন ইসরায়েল-নীতি নিয়ে এক ধরণের ক্ষোভ ও সংশয় তৈরি হচ্ছে, যা ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার ভ্যান্স
ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক শান্তি আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও টার্গেট করেছে।
ভ্যান্স বলেন, "প্রেসিডেন্ট দেশের স্বার্থে যে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি শুধু তা-ই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলাম। আর এ কারণেই আমার ওপর অনবরত আক্রমণ চালানো হচ্ছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, মিত্র কিংবা প্রতিপক্ষ—সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, যা স্বাভাবিক। তবে এই প্রভাব যখন মার্কিন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তকে জিম্মি করে ফেলে, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যুদ্ধের নেপথ্যে ইসরায়েলি প্রভাব?
সাক্ষাৎকারে জো রোগান জানতে চান, ইসরায়েলের এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রভাব না থাকলে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ইরান যুদ্ধে জড়াতো? জবাবে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ভ্যান্স বলেন, "হ্যাঁ, আমি তা-ই মনে করি।"
গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি নিয়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে চুক্তিটি এখন কার্যত ধ্বংসের মুখে। তবে চুক্তি টিকিয়ে রাখার পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকলেও ভ্যান্স পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, সে ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তিনি সম্পূর্ণ একমত।