—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত দুই যুবককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নিহত ফারুক ওরফে শহীদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
আটক অভিযুক্তরা হলেন:
১. মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪), সুন্দলপুর ইউনিয়নের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে।
২. মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯), একই এলাকার আকবর পুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হত্যাকাণ্ড
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেনের বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত আরশাদ ওরফে আকাশ এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। সম্প্রতি তার বেপরোয়া মাদকসেবনের তীব্র প্রতিবাদ করেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির।
১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) রাতের বাগ্বিতণ্ডা: তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবনের বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে আকাশ অত্যন্ত বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। সে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলতে থাকলে পাশে থাকা বিএনপি নেতা ফারুক তাকে শান্ত হতে বলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, "তুমি কাউকে মানো না।" একপর্যায়ে তিনি আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন।
১৫ জুলাই (বুধবার) হত্যার হুমকি ও হামলা: এই ঘটনার জের ধরে বুধবার সকালে আকাশ প্রকাশ্যে ফারুককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বুধবার রাত ১১টার দিকে ফারুক দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তাঁর মেরুদণ্ডে অতর্কিতে ছুরিকাঘাত করে আকাশ।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
রক্তাক্ত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান: "প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনতা কর্তৃক গণপিটুনির শিকার আটক দুই আসামি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।"