—ছবি সংগৃহিত
পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবার কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনীর চালানো বিমান ও ড্রোন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হেনেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
মার্কিন বর্বরতা ও ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত
শনিবার ভোররাত থেকে ইরানের খুজেস্তান, হরমোজগান ও সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন প্রদেশের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। খুজেস্তানের মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিরীহ ইরানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হন। কৃষিকাজের মতো একটি জনকল্যাণমূলক বেসামরিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের এই বর্বর হামলা তাদের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রটিই আবার বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।
হরমোজগানের কেশম দ্বীপ, জাস্ক ও বন্দর আব্বাসের মতো কৌশলগত এলাকা এবং খোন্দাব শহরের পানি শোধনাগারের কাছে মার্কিন ফাইটার জেট ও আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই অন্যায় হামলা চালানো হয়।
মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির বিধ্বংসী পাল্টা জবাব
মার্কিন এই বেআইনি আগ্রাসনের পর চুপ করে থাকেনি ইরান। নিজেদের প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে আইআরজিসি-র মহাকাশ ও নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে নিখুঁত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস: ইরানি বাহিনীর সফল অভিযানে বাহরাইনে থাকা আমেরিকার একটি সম্পূর্ণ ড্রোনবহর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমান্ড সেন্টার ও হ্যাঙ্গারে আঘাত: মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, অত্যাধুনিক পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-контроল সেন্টারে সফলভাবে আঘাত হেনেছে আইআরজিসির মিসাইল।
কুয়েত ও কাতারে বিপর্যয়: কুয়েতের আলী সালেম ও আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতে ইরানের ‘বিধ্বংসী ড্রোন’ আমেরিকার আধুনিক প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, বাংকার এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এছাড়া ওমান, কাতার ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানি প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।
শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করল ওয়াশিংটন
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আমেরিকার এই হঠকারী ও উসকানিমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেহরান উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ইরান বরাবরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গত কয়েক মাস ধরে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, ওয়াশিংটনের এই নতুন আগ্রাসন তা সম্পূর্ণ ‘ব্যর্থ’ করে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করে মার্কিন প্রশাসনই মূলত এই অঞ্চলে আবারও নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা ফিরিয়ে এনেছে।
ইরানি নীতিনির্ধারকদের স্পষ্ট বার্তা—আমেরিকা যদি এই অঞ্চলে তাদের আধিপত্যবাদী ও যুদ্ধংদেহী নীতি বন্ধ না করে, তবে নিজেদের সীমান্ত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে মার্কিন বাহিনীকে।