বগুড়ার ধুনট উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির ডিও লেটার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রেজাউল করিম নামে এক যুবদল কর্মী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার বেড়েরবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রেজাউল করিম একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের ছেলে। বর্তমানে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সুলতানা খাতুন নামে এক গৃহবধূর অনুকূলে একটি ডিও লেটার দেন। রোববার ওই ডিও লেটার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে গেলে যুবদল নেতা মনিবুর রহমান, তাঁর ছেলে এবং বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ডিও লেটার জমা দেওয়ার পর ছবি তোলার সময় রেজাউল করিম ডিও লেটারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মনিবুর রহমানের ছেলে বোরহার উদ্দিন বাঁধন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিদ্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে বিকেল ৪টার দিকে ধুনট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে অবরুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিরাপদে বের করে আনে।
আহত রেজাউল করিমের দাবি, সংসদ সদস্য দেশের বাইরে থাকায় তিনি ডিও লেটারের বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে শাহা আলম নামে আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তবে যুবদল নেতা মনিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রেজাউল করিম ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ডিও লেটারটি ভুয়া দাবি করে ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তারা বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলামকে মারধর করেন এবং বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালান। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
বেড়েরবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানাউল্লাহ বুলুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, ডিও লেটার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে তিনি জানান।