—ছবি মুক্ত প্রভাত
জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচটি ছিল রিজার্ভ বেঞ্চ পরখ করার সুযোগ, আর বাংলাদেশের সামনে দেয়াল পিঠ ঠেকে যাওয়া—ধবলধোলাই এড়ানোর মরণপণ চ্যালেঞ্জ। ২০০১ সালে ঘরের মাঠে ও বাইরে জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে গত ২৫ বছরে সেই লজ্জার পুনরাবৃত্তি হতে দেয়নি টাইগাররা; উল্টো জিম্বাবুয়েকেই তারা ধবলধোলাই করেছে ছয়বার।
চলতি সফরে হারারেতে প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে সেই পুরনো শঙ্কা আবার উঁকি দিয়েছিল। তবে শেষ ম্যাচে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ওপেনারদের জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটের সান্ত্বনার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
শুরুতেই কাঁপল জিম্বাবুয়ে:
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৭ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এরপর চতুর্থ উইকেটে ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজা ৫১ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তানভীর ইসলামের বলে রাজার বিদায়ের পর এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মাধেভেরে। শেষ দিকে ব্রাড ইভান্সের ৪৩ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ১১ বল বাকি থাকতেই ১৯৯ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা।
পেস ত্রয়ীর বিশ্রাম ও বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা:
সিরিজ আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে তাদের প্রধান তিন পেসার—রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিউয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দেয় জিম্বাবুয়ে। এনগারাভার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেন সিকান্দার রাজা।
জিম্বাবুয়ের বিকল্প বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার শুরুতেই জীবন পেয়ে সেই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করেন। উদ্বোধনী জুটিতে এই দুজনে যোগ করেন ১৫১ রান, যা বাংলাদেশের জয়কে একেবারে সহজ করে দেয়। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে আউট হন।
সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ ও জয়ের আনুষ্ঠানিকতা:
সৌম্যর বিদায়ের পর ম্যাচের আকর্ষণ রূপ নেয় তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি উদযাপনে। ৩৩তম ওভার শেষে সমীকরণ দাঁড়ায়—বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৩ রান, আর তানজিদের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ১টি ছক্কা (তখন তিনি ৯৪ রানে অপরাজিত)। ছক্কা মেরে ম্যাচ ও সেঞ্চুরি একসঙ্গে শেষ করতে গিয়ে আরনেস্ট মাসুকুর বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। একই ওভারে আউট হন তাওহিদ হৃদয়ও। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থেকে নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ওয়ানডে সিরিজের নাটকীয়তা শেষেই শুরু হচ্ছে ক্ষুদ্র সংস্করণের লড়াই। আগামী ১৫ জুলাই থেকে বুলাওয়েতে শুরু হবে দু'দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।