—ছবি সংগৃহিত
কয়েক দিন আগেও লড়ছিলেন বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে, দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন তাড়া করছিলেন সবুজ গালিচায়। অথচ সেই রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের রেশ কাটার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাঝমাঠের তারকা জেইডেন অ্যাডামস। আজ বিকেলে কেপটাউনে ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন অ্যাডামস। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মেক্সিকোর বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি; ২-০ গোলে হেরে যাওয়া সেই ম্যাচে খেলেন ৬১ মিনিট। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে দলের ত্রাতা হিসেবে একাদশে ছিলেন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ১০ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন এই মিডফিল্ডার—আর সেটিই যে তাঁর জীবনের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা কে জানত! দক্ষিণ আফ্রিকা এবার শেষ বত্রিশ (নকআউট পর্ব) থেকে বিদায় নিলেও, ইতিহাস গড়া সেই পর্বে মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
ক্যারিয়ার ও ক্লাবের পথচলা:
২৫ বছর বয়সী এই উদীয়মান তারকা তাঁর পুরো ফুটবল ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই। ঘরোয়া ফুটবলে স্টেলেনবশ ক্লাবের যুব দল থেকে উঠে এসে আলো ছড়ান তিনি। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে গত বছর তাঁকে দলে ভেড়ায় মেমলোদি সানডাউনস। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের জার্সিতে ৯ ম্যাচ খেলে ২ বার জালের দেখাও পেয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।
শোকের ছায়া ফুটবল মহলে:
অ্যাডামসের এই অকাল ও রহস্যময় প্রয়াণে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সাউথ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন ও সাউথ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যৌথ এক শোকবার্তায় জানায়, "জেইডেন অত্যন্ত গর্ব, সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষা বহন করেছিলেন। তাঁর এই চলে যাওয়া পরিবার, ক্লাব এবং পুরো দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাকেনজি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, "দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল এক উজ্জ্বল প্রতিভাকে হারাল। যিনি যুব দল থেকে কঠোর পরিশ্রমে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর এমন বিদায় মেনে নেওয়া কঠিন।"
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ফিরে মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই ফুটবলারের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।