—ছবি মুক্ত প্রভাত
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনা মোতায়েন
আইএসপিআর জানায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে। দুর্গত উপজেলাগুলোতে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন একযোগে কাজ শুরু করেছে।
প্লাবিত ৪ উপজেলা, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় নেমে এসেছে চট্টগ্রামের চার উপজেলায়।
লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী—এই ৪টি উপজেলা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে।
আকস্মিক এই বন্যায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এই চার উপজেলার সংকট নিরসনে এবং আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন।
আরও ৩ উপজেলায় বন্যা: ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ৩টি ক্যাম্প স্থাপন
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এই তিন উপজেলায় জরুরি উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সহায়তার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দুর্গত এলাকায় ৩টি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর সেনাবাহিনী
আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।