—ছবি মুক্ত প্রভাত
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে পটুয়াখালীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ উপজেলার দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২৮ জুন (রবিবার) রাতে মির্জাগঞ্জ থানাধীন সিংবাড়ী এলাকায় আসামির বসত ঘরে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ঘটনার আগের দিন তিনি তাঁর ননদের অনুরোধে দুই সন্তানসহ তাঁদের ঘর পাহারা দেওয়ার জন্য ওই বাড়িতে যান। ওইদিনই তাঁর ননদের মেয়ের জামাই মালয়েশিয়া যাবেন বলে ননদ এবং ভুক্তভোগীর স্বামী দুজনেই তাঁকে এগিয়ে দিতে ঢাকায় যান। ঘরে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ওই রাতে ননদের স্বামী মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লা কৌশলে ভুক্তভোগীর শোবার ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি মুখ চেপে ধরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামি কক্ষ ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর স্বামী ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে তাঁরা মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে তাঁদের বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ আইনের আশ্রয় নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, অভিযুক্ত সালাম মোল্লা ১ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রীর ওপর ঘটে যাওয়া এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ে শক্তভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।