—ছবি সংগৃহিত
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) ভোরের দিকে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ বাহরাইন ও কুয়েত লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করে জরুরি বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কাছের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময়ে কুয়েতের আকাশসীমাতেও একাধিক ইরানি ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করতে কুয়েতি সামরিক বাহিনী তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল করে।
হামলার নেপথ্যে ও রয়টার্স-সিএনএন-এর তথ্য
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতের দিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি আক্রমণের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কশেম ও খার্গ দ্বীপসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু তাক করে এই আক্রমণ চালানো হয়। মার্কিন হামলার পর এই দ্বীপগুলোতে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মার্কিন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে এই সংঘাত এখনই থামছে না। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাতে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, এই আক্রমণ আরও বেশ কিছু সময় ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ‘সিএনএন’ এক কর্মকর্তার উক্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই হামলাগুলো মূলত ইরানের জন্য একটি ‘শাস্তি’ এবং এটি খুব দ্রুত শেষ হওয়ার নয়।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা আঘাত
মার্কিন বিমান হামলার তীব্র বিরোধিতা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনকে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের দাবি, আমেরিকা এই অঞ্চলে যুদ্ধ অবসানের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি বারবার লঙ্ঘন করছে।
এরই মধ্যে আইআরজিসি (IRGC) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) ঘাঁটি ‘পোর্ট সালমান’ এবং কুয়েতের ‘আলী আল-সালেম’ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা তাদের প্রাথমিক প্রতিরোধ।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা
এই আকস্মিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এনার্জি বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালির এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই আরব রাষ্ট্রে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে পুরো অঞ্চল এখন উচ্চ যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।