—ছবি মুক্ত প্রভাত
তিন মাস আগের জরিমানা ও সতর্কবার্তাতেও বদলায়নি স্বভাব। চিকিৎসক-নার্সের ঘাটতি আর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের পসরা সাজিয়ে মানবসেবার নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল হাসপাতাল দুটি। অবশেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ও বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত দুটি বেসরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম ১৫ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে চালানো অভিযানে তিন মামলায় মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এই যৌথ ঝটিকা অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন।
যেসব অপরাধে দণ্ড ও বন্ধের নির্দেশ
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে হাসপাতাল দুটিতে নানাবিধ গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মেলে:
নাবিলা হসপিটাল: হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিপ্লোমা নার্স এবং কোনো লেবার রুম (প্রসূতি কক্ষ) ছিল না। এই অপরাধে ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’-এর ১৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
হলি কেয়ার হাসপাতাল: এই হাসপাতালেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং লেবার রুমের অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। একই আইনে একেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া: হলি কেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া ইনজেকশন ও ওষুধ’ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই অপরাধে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর ৫২ ধারায় বড় অঙ্কের অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
‘সুযোগ দিলেও শুধরায়নি তারা’
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন জানান, শনাক্ত হওয়া এসব কারিগরি ও প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুরোপুরি হালনাগাদ না করা পর্যন্ত জনস্বার্থে উভয় হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, "মাত্র তিন মাস আগেও এই দুটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ঠিক একই অপরাধে জরিমানা করা হয়েছিল। আমরা তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধন করার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিল।"
"বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযান। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় এই ধরনের ঝটিকা তদারকি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
— ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন, নোয়াখালী।
টাস্কফোর্সের যৌথ তৎপরতা
অভিযান চলাকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান খায়ের চৌধুরী এবং বেগমগঞ্জ মডেল থানার এএসআই খুরশীদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের পর চৌমুহনীর অন্যান্য বেসরকারি ক্লিনিক ও প্যাথলজি মালিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।