—ছবি মুক্ত প্রভাত
চায়ের দোকানে থরে থরে সাজানো বিস্কুটের বয়াম। চুলোয় ফুটছে চা। আপাতদৃষ্টিতে আটপৌরে এক চায়ের দোকান হলেও, এর আড়ালেই জমজমাট ছিল নিষিদ্ধ মাদকের কারবার। চায়ের কাপের আড্ডার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল গাঁজা বিক্রি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। নোয়াখালীর কবিরহাটে এমন এক ছদ্মবেশী চা দোকানিকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার নলুয়া রেহান আলী চৌধুরী হাট বাজারে অভিযান চালিয়ে মো. মহিন উদ্দিন (৩২) নামের ওই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যাগে মিলল ৮০টি গাঁজার রোল
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন সূত্রে খবর আসে—নলুয়া রেহান আলী চৌধুরী হাটের একটি চায়ের দোকানে চায়ের চেয়ে ‘অন্য কিছু’ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ডিএনসির একটি দল আকস্মিক হানা দেয় মহিন উদ্দিনের দোকানে।
তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি সাধারণ বাজারের ব্যাগ। তবে সেই ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে কর্মকর্তাদের। ভেতরে সুনিপুণভাবে কাগজে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল ৮০টি গাঁজার রোল (পুরিয়া)। ওজন মেপে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গাঁজা এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে টিম।
ছদ্মবেশে দীর্ঘদিনের কারবার
গ্রেপ্তার হওয়া মহিন উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোপীবল্লভপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে। স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিতেই সে কবিরহাট উপজেলার এই বাজারে চায়ের দোকান দিয়েছিল। চা বিক্রির আড়ালে মূলত সে মাদকসেবীদের কাছে খুচরা ও পাইকারি দরে গাঁজা সরবরাহ করত। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসত তার এই বিশেষ ‘চায়ের দোকানে’।
"মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। চায়ের দোকান বা অন্য যেকোনো পেশার আড়ালে যারা এই মরণনেশার ব্যবসা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
— সুব্রত সরকার শুভ, উপপরিচালক, নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কবিরহাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বাদী হয়েছেন নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।