—ছবি মুক্ত প্রভাত
পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরিফ নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার গুরুদাসপুরে দুই দফায় বিক্ষোভ ও সন্ধ্যার পর মশাল মিছিল করা হয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন শিমুল কর্মকার (২৬) নামের এক যুবক।
শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার নবীন কর্মকারের ছেলে। তিনি ইস্কনের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় লোকজন। বেশকিছু দিন ধরে তারা স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস করেন। অভিযুক্তের তালাবদ্ধ বাড়িটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ওই যুবকের ‘শিমুল’ নামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। পবিত্র কাবা ও মক্কা শরীফের অবয়ব সংবলিত ছবিগুলো বিকৃত করা হয়। ফেসবুকের এসব ছবি স্থানীয় মুসলিমদের নজরে আসে। তারই প্রতিবাদে রবিবার অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ির সামনে দিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে তৌহীদি জনতা।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তৌহীদি জনতার একাংশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর করতে গেলে পুলিশি বাধায় রক্ষা পায়। পরে বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ গ্রেপ্তারে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন- গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক ওমর আলী শেখ, উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, খেলাফতে মজলিসের উপজেলা সভাপতি মুফতী আব্দুল আহাদ, মাওলানা জামীল আহমাদ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা মুজাজ্জাজ নাইম, মাওলানা আসাগার আলী প্রমূখ। বিক্ষোভ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
উপজেলা খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতী আব্দুল আহাদ বলেন, ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযুক্তের বিচার চেয়ে রবিবার তারা থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত ইস্কনের সক্রীয় সদস্য শিমুলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, নিরাঞ্জন পাল নিরু, স্কুল শিক্ষক অতুল কুমার বাগচি, কাজল হোড়, সুধানন্দ ইস্কন সদস্য। এসব ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে গুরুদাসপুর পৌর শহরের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে প্রায়শই মিটিং করেন অভিযুক্ত শিমুল কর্মকার। মূলত ইস্কনের সদস্য হওয়ায় ইসলাম বিরোধী এই পোস্ট করার সাহস দেখিয়েছেন ওই যুবক।
মাওলানা জামীল আহমাদ বলেন, মুসলিম প্রধান দেশে ইসলাম নিয়ে এই ধরণের অবমাননা মেনে নেওয়া যায়না। ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইস্কনের সদস্য ওই যুবক প্রায়ই ইসলাম নিয়ে নানা ধরণের কটূক্তিমূলক কথা বলে থাকেন। দ্রুত ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি তার।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে না পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের শুম্ভু হাওলাদার ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করছেন। কখনো ধর্মীয় দাঙ্গা তৈরি হয়। ইসলাম অবমাননা করে শিমুল নামের ওই যুবকের ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ঠিক হয়নি। তিনিও ওই পোস্টের নিন্দা জানাচ্ছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা যাতে অভিযুক্ত শিমুলের বাড়িতে হামলা চালাতে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ব্যাক্তির কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় থানায় আনা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ইসলাম অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার হবে। মুসলিম ধর্মের লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বায়ক তার।