—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের সিংড়ায় মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে, আগ্নেয়াস্ত্র ও রামদার মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুই ডাকাতকে আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করেছে সিংড়া থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস টিম নাটোরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডাকাতদের নিজ নিজ বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের লুটের মালামালসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—সিংড়া উপজেলার বাইগুনি গ্রামের হাবিবুর রহমান (২২) এবং দক্ষিণ সুকানগাড়ি গ্রামের আব্দুল হাকিম হনু (৪৫)।
মধ্যরাতের সেই রুদ্ধশ্বাস ডাকাতি
সিংড়া থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে নওগাঁর আত্রাই শাখার জনতা ব্যাংকের ম্যানেজারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী সিংড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। রাত ১২টার দিকে তারা চৌগ্রাম ইউনিয়নের রাজবাড়ী দিঘীরপাড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে দেখতে পান রাস্তায় একটি ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে আছে (গাছ কেটে বা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাস্তা ব্যারিকেড দেওয়া)।
গাড়ি দুটি থামা মাত্রই ঝোপের আড়াল থেকে ১৮-২০ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় রামদা ও পিস্তল উঁচিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। ডাকাতরা মুহূর্তের মধ্যে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ২৬,৫০০ টাকা, ৩টি দামি স্মার্টফোন, একটি হাতঘড়ি এবং ব্যাংকের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মানিব্যাগ জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে চম্পট দেয়।
প্রযুক্তির সহায়তায় যেভাবে ধরা পড়ল অপরাধীরা
মহাসড়কে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর সিংড়া থানায় একটি নিয়মিত ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়। এরপরই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তদন্তে নামে থানা পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তি এবং স্থানীয় গুপ্তচরদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার প্রথমে বাইগুনি গ্রাম থেকে ২২ বছরের তরুণ ডাকাত হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যতম হোতা ৪৫ বছর বয়সী আব্দুল হাকিম হনুকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বাকিদের ধরতে চিরুনি অভিযান
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, "আটককৃত দুই ডাকাতকে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের সহযোগীদের নাম উগরে দিয়েছে। এই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে আমাদের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: নাটোরের বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে মধ্যরাতে গাছ ফেলে বা গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে ডাকাতির ঘটনা ইদানীং চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। জনতা ব্যাংকের ম্যানেজারের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জিম্মি করার এই ঘটনায় ২ ডাকাতকে দ্রুত গ্রেফতার করা পুলিশের একটি বড় সাফল্য। তবে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের রাতের যাতায়াত নিরাপদ করতে কেবল অপরাধের পর গ্রেফতার নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে পুলিশের নিয়মিত নৈশ টহল বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি।