—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আঞ্চলিক মহাসড়কে রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি দ্রুতগতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসনা বেগম (৬) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চাটখিল-সোনাইমুড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়াগ বাজারের পশ্চিম পাশের পোল এলাকায় এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসনা নোয়াখালীর পার্শ্ববর্তী চাটখিল পৌরসভার সুন্দরপুর গ্রামের মল্লিক বাড়ির মো. হাসানের কন্যা। অবুঝ এই শিশুর আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অটোরিকশা থেকে নেমেই বিপর্যয়
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে জয়াগ বাজারের পশ্চিম পাশের পোল এলাকায় আসে শিশু হাসনা। অটোরিকশা থেকে নামার পরপরই পরিবারের অবর্তমানে সে একাই চাটখিল-সোনাইমুড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই চাটখিল অভিমুখী একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাতনামা বাস তাকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের ভারী চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশু হাসনার প্রাণবায়ু উড়ে যায়।
পরিচয় মেলেনি ঘাতক বাসের, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন
দুর্ঘটনাটি ঘটিয়ে চালক ব্রেক না চেপে বাসটি নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। চোখের পলকে বাসটি উধাও হয়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নম্বর প্লেট খেয়াল করতে না পারায় ঘাতক যান ও তার চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন সড়ক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে ও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাস্তা পার হওয়ার অসতর্কতায় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: দেশের আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কগুলোতে বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অপেশাদারিত্বের বলি হচ্ছে একের পর এক কোমলমতি শিশু। তবে এই দুর্ঘটনার পেছনে মহাসড়কের পাশে ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ। অটোরিকশা থেকে নামার পর মহাসড়ক পারাপারের সময় অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। একই সাথে, ধাক্কা দিয়ে বাস নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার এই সংস্কৃতি প্রমাণ করে যে সড়ক আইন কঠোর হলেও চালকদের মধ্যে শাস্তির ভয় এখনো তৈরি করা যায়নি।