—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় তিন সন্তানকে ফেলে রেখে এক মসজিদের ইমামের হাত ধরে প্রবাসীর স্ত্রীর উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। যাওয়ার সময় ঘর থেকে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও নিরুপায় হয়ে ওই নারীর নিজের মা-ই বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত ২৭ জুন চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পরকীয়া ও গোপনে বিয়ের হলফনামা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ গৃহবধূ নিশাত আক্তারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকায় নিশাত তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে উত্তর নারায়ণপুরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। বাবার বাড়ির কাছেই চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমামতি করতেন মো. রিয়াজ হোসেন নামের এক যুবক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মসজিদে যাতায়াত এবং স্থানীয় সূত্রে ইমাম রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তা গভীর পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়। তবে পরিবারের দাবি, গত ২৭ জুন নিশাত উধাও হওয়ার পর ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর নথি উদ্ধার হয়। সেখানে নিশাত ও ইমাম রিয়াজের একটি যৌথ হলফনামা পাওয়া যায়, যাতে দেখা যায়—পরিবারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তারা গত ৪ মে-ই নতুন কাবিননামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন।
সন্তান ফেলে কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে চম্পট
গোপনে বিয়ের প্রায় দুই মাস পর, গত ২৭ জুন দুপুরে নিশাত তাঁর তিন সন্তানকে না জানিয়ে বাবার বাড়িতে রেখে প্রেমিক ইমাম রিয়াজের সঙ্গে পালিয়ে যান।
মেয়ের এই কাণ্ডে হতবাক মা থানায় দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছয়টি স্বর্ণের আংটি, পাঁচটি চেইন, দুটি ব্রেসলেট ও ১৪ জোড়া কানের দুলসহ কয়েক ভরি ওজনের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান স্বর্ণালংকার সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।
এই ঘটনায় নিশাত আক্তার, ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং রিয়াজের বাবা-মাসহ মোট চারজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মা।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, মায়ের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি থানা পুলিশ আমলে নিয়েছে। ওই নারী স্বেচ্ছায় গেছেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: আধুনিক সমাজে প্রবাসী পরিবারগুলোর একাকিত্ব, নৈতিক স্খলন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। মায়ের এই আইনি পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, অন্ধ আবেগের বশে নিজের সন্তানদের ফেলে কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার এই অনৈতিক আচরণকে পরিবারও আর মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে না।