—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় এক যুবকের পাওনাদারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকার মিশন শেষ হলো ট্র্যাজিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনবাগ পূর্ব বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৪২) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
নিহত পিন্টু ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার গুতমা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নিজ এলাকায় বিপুল অংকের ঋণ ও আর্থিক প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন পিন্টু।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর নিজ গ্রামের বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঋণ নিয়ে এবং বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল পিন্টুর বিরুদ্ধে। পাওনাদারদের হাত থেকে নিজেকে আড়াল করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে গত ১৫ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ পূর্ব বাজারে সামছু মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাসা ভাড়া নেন তিনি।
এর দুই দিন পর ১৭ জুন থেকে তিনি সেখানে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় মালিক তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বললে, পিন্টু 'পরে দেব' বলে সময় ক্ষেপণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত কোনো নথিপত্র জমা দেননি।
বাসার মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পিন্টু বাসার কাছের একটি স্থানীয় হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ফেরেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর আর কোনো খোঁজ শব্দ পাওয়া যায়নি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসার মালিক সামছু মিয়া পিন্টুর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ভেতরে ঢুকে ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে বিছানায় পিন্টুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে তিনি দ্রুত সেনবাগ থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণে ওই যুবক স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ওসি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলাসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: অপরাধ বা প্রতারণার পর আইন কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া সাময়িক স্বস্তি দিলেও, ভেতরের মানসিক অস্থিরতা ও একাকিত্ব মানুষকে কতটা খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়—পিন্টুর এই নিঃসঙ্গ মৃত্যু তারই এক নির্মম উদাহরণ। পরিচয় গোপন রেখে বাসা ভাড়া দেওয়ার এই সংস্কৃতি বাড়িওয়ালাদের অসচেতনতা এবং অপরাধীদের আত্মগোপনের নিরাপদ কৌশলের দিকটিও আবার সামনে নিয়ে এলো।