—ছবি মুক্ত প্রভাত
বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের নাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (বাই স্যাক)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল ওয়েস্টক্লিফ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
একই সাথে বিশ্বের প্রায় ৯৬টি দেশের ৬৬১ জন স্নাতকের মধ্য থেকে একমাত্র শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি এ বছরের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ড. জন লি লিগ্যাসি অব লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের মুখে প্রশংসার জোয়ার ও সেলফি উন্মাদনা
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে ওয়েস্টক্লিফ ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যান্থনি লি দীর্ঘ সময় ধরে ড. জুয়েলের শিক্ষাগত সাফল্য, বিশ্বমানের গবেষণা, নেতৃত্বের অনন্য গুণাবলি এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কেন ড. জুয়েলকে এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দেওয়া হলো, তা বিশ্ব দরবারে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
সেই বিশেষ মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. জুয়েল বলেন, “প্রেসিডেন্ট যখন আমার নাম ও কাজের প্রশংসা করছিলেন, আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অনুভূতিটা ছিল ভাষায় প্রকাশের অতীত।” মূল অনুষ্ঠানের আগে গ্রিন রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও অধ্যাপকরা ড. জুয়েলের সাথে সেলফি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ড. জুয়েল জানান, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।
চাঁদপুরের গ্রাম থেকে ক্যালিফোর্নিয়া জয়ের গল্প
ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েলের এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। চাঁদপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশেই তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বাংলাদেশ কাস্টমসে অত্যন্ত সুনামের সাথে আট বছর চাকরি করেন। ২০২২ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডক্টরাল গবেষণায় তিনি একটি যুগান্তকারী কাজ করেছেন। সরকারি খাত, বিশেষ করে কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সেবার মান বাড়ানো যায়, সেটির একটি উদ্ভাবনী মডেল তৈরি করেছেন তিনি।
গবেষণা ও যুব নেতৃত্বে অনন্য অবদান
ড. জুয়েল ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, জনস্বাস্থ্য ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে ১৬টি উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর গবেষণাকর্ম ৩৭০টিরও বেশি বার উদ্ধৃত (Citations) হয়েছে, যা তাঁকে একজন উদীয়মান আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গবেষণার পাশাপাশি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ‘বাই স্যাক’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানেও তিনি বিভিন্ন প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুব নেতৃত্ব বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।