—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের পারীল গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮ বছরের পুরনো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। গত ৩ মাস ধরে দোকানটি বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামিম হোসেন; রুদ্ধ হয়ে গেছে তাঁর জীবন-জীবিকার একমাত্র পথ।
স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শামিমের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিরোধের সূত্রপাত ও সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পারীল গ্রামের পশ্চিমে ৩৯০ দাগের ৪ শতক ভিটা এবং ৩৮৬ দাগের ৫ শতক বাড়ির জায়গার মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই জায়গার মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এই সংঘর্ষের রেশ ধরেই প্রতিপক্ষরা শামিম হোসেনের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং জোরপূর্বক দোকানটি বন্ধ করে দেয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অসহায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামিম হোসেন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
"চলনবিলের দুর্গম পল্লী ছিল এই পারীল গ্রাম। রাস্তাঘাট হওয়ার পর জীবন-জীবিকার তাগিদে পারীল বটতলায় একটি দোকান শুরু করি। প্রায় ৭-৮ বছর ধরে সততার সাথে ব্যবসা করে আসছি, বেচাকেনাও ভালো হতো। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আমার দোকানে আসত, দিনে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতো। কিন্তু আমার এই স্বচ্ছলতা প্রতিপক্ষের সহ্য হয়নি। গত ২৪ এপ্রিল আমার দোকানে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট চালানো হয়। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে এবং ৩ মাস ধরে আমার আয়ের পথ বন্ধ।"
অন্যপক্ষে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন তাঁর দাবির সপক্ষে বলেন,
"আমাদের বৈধ কাগজপত্র, খাজনা ও খারিজ রয়েছে। কিন্তু গ্রাম্য শালিসে আমাদের কাগজপত্র না দেখে, অযৌক্তিক ও নথিবীহীন একটি ডিক্রির ওপর ভিত্তি করে একতরফা রায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র লাঠির জোরে আমাদের হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক ও ন্যায়বিচার চাই।"
পুলিশের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পারীল গ্রামে জমিজমা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে এবং এখনও মাঝে মাঝে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকার পথ সচল করতে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ দাবি করছেন পারীল গ্রামের সাধারণ মানুষ।