—ছবি সংগৃহিত
ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে এক মহাকাব্যিক রূপকথার জন্ম দিল লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে তারা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এই অঘটন ও অবিস্মরণীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
দেশটির সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) লাতিন আমেরিকার এই দেশটির সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ ছুটির আওতায় থাকবে। সোমবার রাতে এক বিশেষ পুশ বার্তায় এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট পেনা। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ফুটবল দলের এই গৌরবোজ্জ্বল ও অবিশ্বাস্য সাফল্য যেন পুরো দেশবাসী একসঙ্গে উদযাপন করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই এই রাষ্ট্রীয় ছুটির ঘোষণা।
টাইব্রেকারের চরম স্নায়ুযুদ্ধ
নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে দিতে হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরীক্ষা। ফেবারিট জার্মানির বিপক্ষে শুরু থেকেই সমানে সমানে লড়াই করে তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের মাঠের তীব্র যুদ্ধ শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় ছিল।
এরপর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে শক্তিশালী জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেয় প্যারাগুয়ে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই প্যারাগুয়ের রাজধানীসহ দেশজুড়ে রাজপথে নেমে আসে লাখো ফুটবলপ্রেমী। রাতভর চলে বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস ও বিজয় মিছিল।
প্রেসিডেন্টের বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহার
কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে থাকা প্যারাগুয়ের এই জয়কে দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন ফুটবলবোদ্ধারা।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবলারদের এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় কীর্তিকে অনন্য সম্মান জানাতে নিজের সেই বিশেষ আইনি ক্ষমতাকেই এবার ব্যবহার করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। বিশ্বমঞ্চে জার্মানি বধের এই গল্প ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিশ্চিতভাবেই এক সোনালী অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।