—ছবি সংগৃহিত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের চূড়ান্ত রেফারি প্যানেল ঘোষণা করেছে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। বিশ্বমঞ্চের এই নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠের মূল পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন ইতালির অভিজ্ঞ ও আলোচিত রেফারি মাউরিজিও মারিয়ানি। তার সাথে সহকারী হিসেবে মাঠ কাঁপাবেন একঝাঁক ইউরোপীয় রেফারি।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণ-বাঁচন লড়াই শুরু হবে। ম্যাচে প্রধান রেফারি মারিয়ানিকে লাইনসম্যান বা সহকারী হিসেবে সহায়তা করবেন তার দুই স্বদেশী দানিয়েল বিন্দোনি এবং আলবার্তো তেগোনি। এ ছাড়া ম্যাচটিতে চতুর্থ অফিসিয়াল হিসেবে থাকছেন সুইজারল্যান্ডের সান্দ্রো শ্যারার এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন আরেক সুইস অফিসিয়াল স্টিফেন ডি আলমেইদা।
চলতি বিশ্বকাপে ইতালি থেকে একমাত্র মাঠের রেফারি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন ৪৪ বছর বয়সী মারিয়ানি। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে এবং কলম্বিয়া বনাম ডিআর কঙ্গোর ম্যাচ দুটি দারুণভাবে পরিচালনা করে নজর কেড়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের সফলতার পুরস্কার হিসেবেই এবার নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দিল ফিফা।
তবে মারিয়ানির ওপর ফিফা আস্থা রাখলেও তাকে ঘিরে অতীতের কিছু বড় বিতর্ক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। ইতালিয়ান এই রেফারির ক্যারিয়ার যেন এক রোমাঞ্চকর রোলারকোস্টার রাইড। সিরি আ’, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ঘরোয়া হাইপ্রোফাইল ম্যাচগুলোতে একাধিক পেনাল্টি ও ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় বিতর্কটি ঘটেছিল ২০২৪ সালে; সিরি ‘আ’তে নাপোলি বনাম ইন্টার মিলানের মধ্যকার ম্যাচে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে ম্যাচ পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ বা সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, সর্বশেষ ঘরোয়া মৌসুমেও সহকারী রেফারি ও ভিএআর–এর সহায়তায় দেওয়া একটি বিতর্কিত পেনাল্টিকে কেন্দ্র করে ফুটবলার ও সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন মারিয়ানি।
এর আগে ২০২১ সালের আরেকটি ঘটনা ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছিল। ইন্টার ও য়্যুভেন্তাসের মধ্যকার ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে য়্যুভেন্তাসকে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেন তিনি। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ ইন্টার মিলানের ফুটবলাররা ড্রেসিংরুমের টানেলে মারিয়ানিকে ঘিরে ধরে চড়াও হয়েছিলেন।
বিতর্কের এই দীর্ঘ খতিয়ান থাকলেও মারিয়ানির ঝুলিতে আছে বেশ কিছু হাই-ভোল্টেজ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সফলতার সঙ্গে শেষ করার দারুণ রেকর্ড। স্নায়ুচাপ সামলানোর এই দক্ষতার কারণেই হয়তো সাময়িক বিতর্ককে পাশে ঠেলে ব্রাজিল-জাপানের মতো হাইপ্রোফাইল নকআউট ম্যাচে তার ওপরই ভরসা রাখল ফিফা। এখন দেখার বিষয়, হলুদ সাম্বা ও ব্লু সামুরাইদের এই মেগা লড়াইয়ে মারিয়ানির বাঁশি কতটা নির্ভুল ও নিরপেক্ষ থাকে।