—ছবি সংগৃহিত
ঢাকার তুরাগ নদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অপপ্রচার নাকচ করে জনমনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি বিশেষ মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।
গুজবের সূত্রপাত ও প্রেক্ষাপট
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি দলটির নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দল এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
এই ধরপাকড়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও আইডি থেকে দাবি করা হতে থাকে যে, মিছিল থেকে আটক করার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাতজনকে হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে এই সংক্রান্ত কিছু পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ভিত্তিহীন খবরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
পুলিশ সদর দপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এই ধরনের কোনো ঘটনার বিন্দুমাত্র সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: "একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেকোনো সংবেদনশীল খবর যাচাই না করে বিশ্বাস না করার এবং যেকোনো ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।