—ছবি সংগৃহিত
মাঠের খেলায় বরাবরই আলাদা এক রোমাঞ্চ আর উত্তাপ ছড়ায় ভূরাজনীতি। বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। মাঠের বাইরে যখন এমন যুদ্ধংদেহী অবস্থা, তখন ফুটবল বিশ্ব মেলাচ্ছে এক নতুন সমীকরণ—বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কি দেখা হতে যাচ্ছে এই দুই চিরবৈরী দেশের? গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ শেষে সেই সমীকরণ এখন কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে?
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ইরানকে নিজেদের দেশে পা রাখতে দিতে চাইছিল না মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কঠোর নির্দেশনার কারণে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলছে ইরান। তবে খেলার অনুমতি থাকলেও তাদের সেখানে থাকার অনুমতি নেই! ফলে প্রতি ম্যাচ শেষেই বিশেষ বিমানে করে ইরান দলকে উড়ে যেতে হচ্ছে প্রতিবেশী মেক্সিকোতে, সেখানেই বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের মূল ঘাঁটি বা ক্যাম্প গড়েছে তারা।
শীর্ষে থেকে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের অপেক্ষা ‘জি’ গ্রুপে
মাঠের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে নিজেদের প্রথম লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে 'ডি' গ্রুপ থেকে সবার আগে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। শুধু তাই নয়, হেড-টু-হেডে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন (শীর্ষ দল) হিসেবেই দ্বিতীয় পর্বে যাচ্ছে স্বাগতিকেরা।
অন্যদিকে, দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে ইরান বর্তমানে আছে ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এখন শীর্ষে থাকা শক্তিশালী মিসর।
শেষ ৩২ নয়, দেখা হতে পারে শেষ ১৬-তে!
অনেকে আশা করেছিলেন নকআউটের প্রথম ধাপ অর্থাৎ 'শেষ ৩২'-এর লড়াইয়েই হয়তো দেখা হয়ে যেতে পারে এই দুই দেশের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত শেষ। তবে নকআউট পর্বের দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ 'শেষ ১৬' বা রাউন্ড অব সিক্সটিনে তাদের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর সম্ভাবনা এখনও সমীকরণের খাতায় বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে।
এই সমীকরণ সত্যি হতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের শেষ ম্যাচে মিসরকে হারাতে হবে। মিসরকে হারালেই কেবল ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে (গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে) শেষ ৩২-এ পা রাখবে ইরানিরা। সেখানে প্রথম পর্ব পার হয়ে আসা অন্য কোনো গ্রুপের তৃতীয় দলের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
যদি ইরান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এর ম্যাচ জেতে এবং ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের শেষ ৩২-এর বাধা টপকাতে পারে, তবেই ফুটবল বিশ্ব দেখবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণ। সব ‘যদি-কিন্তু’র হিসাব মিললে আগামী ৭ জুলাই সকাল ৬টায় সিয়াটলে শেষ ১৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
ভূরাজনীতির চরম ‘দা-কুমড়া’ সম্পর্ক ভুলে দুই দেশের ফুটবলাররা যখন সবুজ গালিচায় বুটজোড়া সঁপে দেবেন, তখন সিয়াটলের গ্যালারিতে ফুটবল ছাপিয়ে কোন আবহ তৈরি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে তার আগে দুই দলকেই পার হতে হবে নকআউটের কঠিন বৈতরণী। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন তাই সিয়াটলের সেই সম্ভাব্য রূপকথার দিকেই!