—ছবি মুক্ত প্রভাত
শিক্ষাই হচ্ছে মানুষের মূল সম্বল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালোবাসার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে শিক্ষা—এমনটাই মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাকে। তাঁকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সবচেয়ে প্রিয় বিভাগ কোনটি, তিনি বলবেন শিক্ষা। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেও তিনি শিক্ষার কথাই বলবেন এবং এই খাতকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চান।”
আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন এবং ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের মাদরাসা শিক্ষকরা মে-জুন মাসের বেতন পাচ্ছেন না। ২০১৭ সালে একটি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা ১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও অটোমেটেড ফান্ড ট্রান্সফার প্রোগ্রাম না থাকায় বেতনের সঠিক বরাদ্দ বুঝতে পারেনি। প্রতি মাসে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। তারা এই শিক্ষকদের নিয়োগ দিলেও বেতনের ব্যবস্থা করে যায়নি। আমাদের কাছে থাকা ১০০ কোটি টাকা আমরা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছি এবং আগামী জুলাই মাসে সবার বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।”
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কীভাবে কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত ও গুরুত্ব দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকার ভাবছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। বিশ্ব পরিমণ্ডলে এই বয়সে তাঁর মতো দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী আমি আর দেখছি না। তিনি প্রতিনিয়ত এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা গড়ার স্বপ্ন দেশনায়ক তারেক রহমানের।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ এবং ৩ জনকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে কেক কেটে, পায়রা উড়িয়ে ও একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।