—ছবি মুক্ত প্রভাত
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও পানির প্রবল স্রোতে নিমগাছী-হেউটনগর সড়কের চরকাদহ খালের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু দেবে ও হেলে পড়েছে। আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ৮টার দিকে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে গ্রামীণ এই সড়কের চরকাদহ খালের ওপর প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের এই আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে গত দেড় দশকে সড়কটির গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধুনটের নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের যাতায়াত এবং খালের দুপারের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই সেতুটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল রোববার বিকেল থেকে ধুনট উপজেলা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে চরকাদহ খালের ভাটি এলাকায় তীব্র পানির স্রোত নামে। পানির প্রচণ্ড চাপে সেতুর নিচের অংশ এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে যায়। আজ সকাল ৮টার দিকে সেতুটি হঠাৎ দেবে এবং একপাশে হেলে পড়ে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল আক্ষেপ করে বলেন, “ফসলের জমিতে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন আমাদের এই সেতু পার হতে হয়। সেতুটি দেবে যাওয়ায় এখন আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।” অটোভ্যান চালক নূর আলম বলেন, “এই পথে প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। সেতুটি ভেঙে পড়ায় এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত যেন এখানে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।”
ঘটনার খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল্লাহ নিজামী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন জানান, ভারী বর্ষণ ও পানির তীব্র স্রোতের কারণে সেতুর নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ধসে যাওয়া সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে প্রয়োজনীয় জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনসাধারণ সাময়িক বিকল্প ব্যবস্থার পাশাপাশি সেখানে স্থায়ীভাবে একটি নতুন সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।