—ছবি মুক্ত প্রভাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীতে ঝটিকা মিছিলের দাবি করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি পুরোনো ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।
তিনি জানান, আজ দুপুরের পর থেকে ফেসবুকের বেশ কয়েকটি আইডি ও পেজ থেকে একটি ভিডিও ও কিছু স্থিরচিত্র পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়—‘নিষিদ্ধ দলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নোয়াখালীর আপামর জনতা পবিত্র জুমার নামাজের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমে গেছে’। বিষয়টি নজরে আসার পরই জেলা পুলিশের সাইবার টিম এর সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া। আজ শুক্রবার ১৯ জুন নোয়াখালী জেলার কোথাও এই ধরনের কোনো মিছিল, সমাবেশ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবিগুলো কোনোটিই বর্তমান সময়ের নয়। এগুলো অনেক আগের ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র। শুধু তাই নয়, ওই ভিডিওর মূল আওয়াজ বাদ দিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন স্লোগান সম্পাদনা (এডিটিং) করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত জনমনে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এটি প্রচার করছে।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, "ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, সেই আইডি ও পেজগুলো আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করতে শুরু করেছি। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের কোনো গুজবে কান না দিতে এবং যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য জেলার সাধারণ নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।