—ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার কারণে শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে পড়া মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা অপরিহার্য বলে মনে করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দুই দেশের প্রতি এই আলোচনার আহ্বান জানান।
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন, জাতিসংঘের উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়— সীমান্তের শূন্যরেখায় বেশ কিছু দিন ধরে আটকে থাকা নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সুনির্দিষ্ট অবস্থান কী?
জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, "সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই সংকট নিরসনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রয়োজন।"
তিনি উভয় পক্ষকে অনতিবিলম্বে সংলাপের টেবিলে বসে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
নতুন করে আলোচনায় 'পুশইন'
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশইন’ ইস্যুটি নতুন করে ভূ-রাজনীতি ও গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচয় যাচাই বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে চরম খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই নারী ও শিশু।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বসংস্থার এই আহ্বান দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।