—ছবি সংগৃহিত
মেঘ কেটে গিয়ে যেমন মুক্ত প্রভাতের সোনালী আলোয় পৃথিবী শান্ত হয়, ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যকার খসড়া সমঝোতা স্মারকটি বিশ্ববাসীকে ঠিক তেমনই এক শান্তির বার্তা দিচ্ছিল। কিন্তু ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক হুঙ্কার সেই শান্তির আকাশে আবারও যুদ্ধমেঘের ছায়া এনে দিল। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সাথে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতাটি কেবলই একটা প্রাথমিক খসড়া; চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত পছন্দ না হলে তেহরানের ওপর আবারও মার্কিন যুদ্ধবিমান গর্জে উঠতে সময় নেবে না।
ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে আজ বুধবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ কড়া ভাষায় বলেন, ‘এটি মূলত একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমি এটা পছন্দ না করি, তবে আমরা আবার তাদের ওপর হামলা চালাব, তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব।’
গত রোববার ডিজিটাল মাধ্যমে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এই খসড়া চুক্তিটি সই হয়। আগামী শুক্রবার জেনেভায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের এই মন্তব্য পুরো প্রক্রিয়াটিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই চুক্তির ফলে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়লেও, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।
তেলের বাজারে সুবাতাস, চিন্তিত মিত্ররা:
ট্রাম্পের যুদ্ধের রণহুঙ্কার সত্ত্বেও এই চুক্তির আভাসে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের এই আগ্রাসী যুদ্ধনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়েছে।
মুক্ত প্রভাতের আলোয় দাঁড়িয়ে বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে আগামী শুক্রবারের জেনেভা বৈঠকের দিকে। ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের পর ইরান শেষ পর্যন্ত টেবিলে বসে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও বোমারু বিমানের শব্দে ভারী হয়ে উঠবে—তা সময়ই বলে দেবে।