—ছবি সংগৃহিত
ভোরের কুয়াশা কেটে যেমন মুক্ত প্রভাতের উদয় হয়, ক্রিকেট মাঠেও নতুন ভোরের স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল এক ঝাঁক তরুণ। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের চোটের কারণে টস করতে নামলেন নতুন সেনাপতি তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসের ভাগ্য পাশে থাকলেও, ব্যাটারদের এলোমেলো শটের মহড়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশার গল্পই লেখা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজের প্রথম ম্যাচে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
১৩২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে স্কোরবোর্ডে পুঁজি কম থাকলেও লড়াই ছাড়েননি বাংলাদেশের বোলাররা। অজিদের ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ কিছুটা জমিয়ে তুললেও, ১০ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।
৯৯ রানেই নেই ৮ উইকেট: যেন তাসের ঘর
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য এমন অন্ধকার ছিল না। ওপেনিং জুটিতে ১৭ বলে ২৬ রান তুলে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। কিন্তু স্পেনসার জনসনের বলে তানজিদ কাভারের ওপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে ক্যাচ দিলে শুরু হয় ধস। ১৪ বলে ২০ রান করে সাইফও ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর উইকেটে এসে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চ জাগিয়েছিলেন তরুণ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু সেই রোমাঞ্চ স্থায়ী হয়নি; ৫ বলে ৮ রান করেই তিনি শিকার হন অ্যাডাম জাম্পার। দুই বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ফেরা সৌম্য সরকারও (১৮ বলে ১৭) পারেননি হাল ধরতে। একের পর এক এলোমেলো শটের মাশুল দিয়ে মাত্র ৯৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে বলতে গেলে ওখানেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
মেহেদীর প্রতিরোধ ও গাফফারের আশা জাগানো অভিষেক
যখন এক শ রানের নিচে অলআউট হওয়ার লজ্জা চোখ রাঙাচ্ছিল, তখন এক প্রান্তে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান মেহেদী হাসান। রিশাদ বা শরীফুলরা টিকতে না পারলেও, শেষ উইকেটে মোস্তাফিজুর রহমানকে সাথে নিয়ে ১২ বলে ২৩ রানের একটি মূল্যবান জুটি গড়েন মেহেদী। মোস্তাফিজ ৭ রানে এলবিডব্লিউ হলেও মেহেদীর ২২ বলে ২৯ রানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে ১৯ ওভারে ১৩১ রান তোলে বাংলাদেশ।
অভিষেকের আলো:
পুঁজি ছোট হলেও বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন অভিষিক্ত পেসার আবদুল গাফফার। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টির প্রথম ম্যাচেই ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বরে নামা কুপার কনোলির ২৭ বলে ৪৭ রানের (৪টি চার ও ৩টি ছক্কা) বিধ্বংসী ইনিংসটি বাংলাদেশের সব প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। গাফফার যখন কনোলিকে ফেরান, ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য অস্ট্রেলিয়ার দিকে হেলে পড়েছে।
মুক্ত প্রভাতের আলোয় দাঁড়িয়ে এই হার যেমন কিছু ভুলকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, তেমনি গাফফারের অভিষেক কিংবা মেহেদীর লড়াই আগামী দিনের নতুন আশার আলোও দেখাচ্ছে। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি আগামী শুক্রবার; ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক ভোরের অপেক্ষায় এখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।