—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিনটি বাড়িতে ধারাবাহিক ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোশধারী ডাকাত দল বাড়িগুলোতে হানা দিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। পরপর তিনটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মন্জুর আহমেদ। এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়ন এবং বসুরহাট পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডে এই ডাকাতির ঘটনাগুলো ঘটে।
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দফায় দফায় লুটপাট
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের প্রথম হানাটি ছিল রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান পন্ডিত বাড়িতে। সেখানে আবুধাবি প্রবাসী জনির ভবনের লোহার দরজার লক ভেঙে ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা এবং ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাত দলটি হানা দেয় বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়ের টেক এলাকার কাতার প্রবাসী আব্দুল হাই মাসুদের বাড়িতে। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকি দেয়। এরপর আলমারি ভেঙে ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয়।
একই রাতে ডাকাত দলের সদস্যরা বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকার মান্নানের বাড়িতেও প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা ৬ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
তদন্তে পুলিশ, লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা
কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মন্জুর আহমেদ বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের পৃথক টিম তিনটি ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলেই অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"