—ছবি সংগৃহিত
স্পেনের ইবিজা দ্বীপ সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিশ্বখ্যাত। চোখজুড়ানো অসংখ্য সমুদ্রতট ছড়ানো এই দেশে। তবে আজ স্পেনের তটে কোনো সাধারণ হাঙরের আনাগোনা নেই, ফুটবল মাঠের নীল সাগরে স্প্যানিশদের রুখে দিতে আসছে এক ঝাঁক ‘নীল হাঙর’!
আসলে, স্পেনের মুখোমুখি হতে যাওয়া পুঁচকে দ্বীপদেশ কেপ ভার্দের ফুটবলের ডাকনামই হলো ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে তারা কি কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে যদি হাঙর হয়, তবে শক্তির বিচারে স্পেন তো নিশ্চিতভাবেই নীল তিমি!
উদ্বোধনী ম্যাচে স্পেনের অননুমেয় রূপ
প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে হলেও স্পেনের বড় চিন্তা সম্ভবত নিজেদের অতীত ইতিহাস নিয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্প্যানিশদের রূপ কেমন হবে, তা বলা মুশকিল। গত তিনটি বিশ্বকাপের দিকে তাকালেই সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে চূর্ণ হওয়া।
২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস ড্র।
২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া।
শুরুর ম্যাচে স্পেনের রূপ যেমনই হোক, একটা বিষয় নিশ্চিত—গোলবন্যা হবেই। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই তিন বিশ্বকাপের একবারও শেষ ষোলোর বাধা পার হতে পারেনি তারা। এবার লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ২০২৪ ইউরো জয়ী স্পেন সেই খরা কাটাতে মরিয়া। ২০১০ সালে জোহানেসবার্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন, এবার আইবেরিয়ান উপদ্বীপে সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি কে করবেন, সেটাই দেখার।
চোটের অস্বস্তি ও ইয়ামাল-উইলিয়ামস জুটি
স্পেন ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় বাজি ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। গত এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পেয়ে তিনি তো বিশ্বকাপ শেষই ভেবে বসেছিলেন। কিন্তু তীব্র জেদ আর দ্রুত সেরে ওঠার পর কোচ ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষেই মাঠে নামতে পারেন ইয়ামাল; শুরু থেকে না হলেও বদলি হিসেবে তাঁর খেলার সম্ভাবনা প্রবল।
চোটের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। বাঁ প্রান্তের গতি তারকা নিকো উইলিয়ামস এবং ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজও চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে আছেন। ইউরোতে যে ইয়ামাল-উইলিইয়ামস রসায়ন ছিল স্পেনের মূল শক্তির উৎস, আজ তাঁদের শুরু থেকে না পাওয়া গেলে বিকল্প ভাবতেই হবে কোচকে।
মধুর সমস্যা ও তারকাহীন কেপ ভার্দের স্বপ্ন
তবে স্পেনের স্কোয়াড এতটাই গভীর যে, বিকল্প নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না ফুয়েন্তেকে।
মিডফিল্ড: রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের উপস্থিতির কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো তারকাদেরও হয়তো সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে।
গোলকিপার: উনাই সিমন, দাভিদ রায়া আর হোয়ান গার্সিয়াদের নিয়ে দলে চলছে 'মধুর সমস্যা'।
রক্ষণ: পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা আছেন বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে।
অন্যদিকে মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে ক্যামেরুনের মতো পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বর দল স্পেনের তারায় ভরা আকাশের পাশে ৬৭ নম্বর দল কেপ ভার্দে যেন টিমটিম করে জ্বলতে থাকা এক তারাপুঞ্জ। শক্তির বিচারে কোনো তুলনা না চললেও, আজ বিশ্বমঞ্চে এই পুঁচকে দলটি 'নীল হাঙর' হয়ে স্প্যানিশ তিমির ওপর কোনো আঘাত হানতে পারে কি না, ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে সেদিকেই।