-ছবি সংগৃহিত
অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়লেন বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক বিতর্কিত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
আজ রবিবার পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও এআইজি শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুন একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারকে 'ঐতিহাসিক সাফল্য' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি একে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলাদিনের চেরাগ ও অবরুদ্ধ সম্পদের পাহাড়
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে বেনজীর আহমেদের আকাশচুম্বী দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তখনই তিনি গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অনুসন্ধান শেষে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন ও তাহসীনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই পুলিশ কর্তার পুরো পরিবার যেন মেতেছিল অবৈধ সম্পদের উৎসবে:
বেনজীর আহমেদ: ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপন।
জীশান মীর্জা (স্ত্রী): ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন।
ফারহীন ও তাহসীন (কন্যাদ্বয়): যথাক্রমে ৮ কোটি ৭৫ লাখ এবং ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন।
আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই এই পরিবারের নামে থাকা ৬৪৬ বিঘারও বেশি জমি, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার এবং ৩৩টি ব্যাংক হিসাবসহ সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ভয় দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের জমি লিখে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার শিখর থেকে পতনের অতল গহ্বরে
২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ এর আগে ডিএমপি কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দাপটের সাথে কাজ করেছেন। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সাতজন র্যাব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নাম ছিল শীর্ষে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়ার এক লজ্জাজনক জালিয়াতির খবরও সম্প্রতি উন্মোচিত হয়।
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন। সেই পরোয়ানা জারির কয়েক মাসের মাথায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসী শহর দুবাইয়ে অবসান হলো তাঁর পলাতক জীবনের।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হলেও বেনজীর আহমেদকে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এবং কত দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রত্যর্পণ সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদে