—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি সচ্ছল প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর, নারীদের লাঞ্ছিত এবং পুরো পরিবারকে টানা তিন দিন অবরুদ্ধ করে রাখার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি রাজনৈতিক দল বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে বিবাদীদের অনবরত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রকৌশলী রাজিউল হাসান। এর আগে গত ১ জুন উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়ারিয়া গ্রামের কোয়ারিয়া হাজী বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মাটি কাটার জেরে হামলা, প্রবীণ ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঞ্ছিত
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরেন প্রকৌশলী রাজিউল হাসান। তাঁর অপর এক ভাইও প্রবাসে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। গত ১ জুন প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পুকুরপাড় সংস্কারের জন্য মাটি ফেলার কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী শহীদ আলম ও কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা প্রবাসীদের বসতবাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রবাসী রাজিউল হাসানের প্রবীণ বাবা এ.কে.এম. নুর উদ্দিন কাশেমকে মারতে তেড়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একই সাথে পরিবারের নারী সদস্যদেরও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় প্রবীণ নুর উদ্দিন কাশেমকে হত্যা করে লাশ গুম করা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি ক্ষিপ্ত প্রতিপক্ষ, বরং এরপর টানা তিন দিন বাড়ির সামনে রামদা-ছেনির মতো অস্ত্রের মহড়া দিয়ে পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
নেপথ্যে দেওয়ানি মামলা ও ‘বিএনপি’ পরিচয়ের দাপট
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, দীর্ঘদিন বাড়ি খালি থাকার সুযোগে প্রতিবেশী শহীদ আলম ও কামরুল ইসলামের পরিবার তাঁদের পৈতৃক জমি গ্রাস করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে। মামলার আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে প্রতিপক্ষরা বর্তমানে বিএনপির দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এবং এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে এই ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার প্রতিপক্ষের
তবে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কামরুল হাসান। উল্টো প্রবাসীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের দাবি তুলে তিনি বলেন, “তারা আমাদের রেকর্ডীয় জায়গায় জোরপূর্বক ঘাটলা নির্মাণের চেষ্টা করলে আমরা কেবল বাধা দিয়েছি। তারা বেআইনিভাবে আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে গেলে দেওয়ানি মামলার রায় আমাদের পক্ষেই আসে।”
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের বলেন, “পারিবারিক ও ভূমি বিরোধের জেরে প্রবাসী পরিবারকে গালিগালাজ করা এবং তাঁদের প্রধান ফটকে আঘাত করার ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সত্য। আমাদের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজেও বাড়ির প্রবীণ মালিককে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” প্রকাশ্য দিবালোকে প্রবাসী পরিবারের ওপর এমন বর্বর আচরণের ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।