—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে যুবদল নেতা মো. সফিকুল ইসলাম ওরফে সফিককে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা যুবদল।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থী এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নূরুল হুদা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
মাছের জাল নিয়ে বিরোধ, অতঃপর নির্মমতা
নির্যাতনের শিকার নারীর নাম তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫)। তিনি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত সফিক একই গ্রামের মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে চরলক্ষ্মী গ্রামে মাছ ধরা এবং জাল নিয়ে তাসলিমা আক্তারের পরিবারের সাথে সফিকুলের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা সফিকুল ইসলাম লোহার পাইপ দিয়ে প্রকাশ্যে ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। নারীর চিৎকার ও আকুতি সত্ত্বেও সফিক নির্মমভাবে পিটুনি চালিয়ে যান।
ভিডিও ভাইরাল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন
প্রকাশ্য দিবালোকে এক নারীকে পাইপ দিয়ে পেটানোর এই দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করে কেউ একজন ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এমন বর্বরতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের শীর্ষ নেতারা তাৎক্ষণিক এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই অভিযুক্ত সফিকুলকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুবদলের ব্যানারে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা নারী নির্যাতনকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।