—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে দেশের সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পেনশনধারীদের অপেক্ষার অবসান ঘটল। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঐতিহাসিক বাজেট বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাচ্ছে এই নতুন বেতন স্কেল।
???? সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার: এক নজরে নতুন কাঠামো
বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে ২০১৫ সালের অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন। যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ৮,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নবম বেতনকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে:
সর্বনিম্ন মূল বেতন (প্রস্তাবিত): ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ মূল বেতন (প্রস্তাবিত): ১,৬০,০০০ টাকা
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া: সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এটি মোট তিনটি ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
???? বরাদ্দের ‘লুকানো’ রহস্য: কোথায় আছে নতুন বেতনের টাকা?
বাজেটের সাধারণ পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে (বিবরণী-২খ ও বিবরণী-৪) স্বাভাবিক নিয়মেই বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। তাহলে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় রাখা হয়েছে?
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে বাজেটের সেই হিসাবের অন্দরমহল বিশ্লেষণ করেছে মুক্ত প্রভাত:
অর্থমন্ত্রী এই বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করে রেখেছেন বাজেট সংক্ষিপ্ত-সারের বিবরণী ২ক-এর ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে।
এই খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৮৬,৮৬২ কোটি টাকা) তুলনায় একলাফে ৫৪,৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
অর্থ বিভাগের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এই বাড়তি বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থাৎ কমপক্ষে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম ধাপের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য।