—ছবি সংগৃহিত
সদ্য ভেজা মিরপুরের ২২ গজে যেন এক নতুন ভোরের আলো দেখল বাংলাদেশ ক্রিকেট। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বা পরাশক্তি—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, অস্ট্রেলিয়ার অহংকার গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির মেঘ কেটে গিয়ে শেষ বিকেলে যে সূর্য হাসল, তা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক মুক্ত প্রভাত। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অজিদের ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা।
বৃষ্টির কারণে বারবার বিঘ্নিত হওয়া ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। তবে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত এবং বিষাক্ত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল অজি ব্যাটাররা। নির্ধারিত ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৮৭ রান তুলতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। দলের পক্ষে মারনাস লাবুশেন (৫৫) ও জেভিয়ার বার্টলেটের (৫২) জোড়া অর্ধশতক না হলে আরও আগেই ধসে পড়ত অজিদের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ও মোস্তাফিজ—উভয়েই শিকার করেন ৩টি করে উইকেট।
পরবর্তীতে বৃষ্টির কারণে ‘ডিএলএস’ বা ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটের চারিপাশে নান্দনিক সব শটে দুজনেই খেলেন ৪২ রানের দুটি দায়িত্বশীল ইনিংস। মাঝে লিটন দাসের ১৮ বলে ২১ রানের ক্যামিও বাংলাদেশকে জয়ের একদম প্রান্তে নিয়ে যায়।
এরপর ম্যাচের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ৩৬ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে বাংলাদেশ। হৃদয় ৪০ রান এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধরা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন সত্যি হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। মাঠের চারপাশের গ্যালারিতে তখন হাজারো দর্শকের উল্লাস, যা প্রমাণ করে—এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।